দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রীসে যাওয়ার পথে সাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের অন্তত ৬ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জে। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) এবং করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৩) রয়েছেন।
এছাড়া, নতুন করে নিহতের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জ দোয়ারা উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবির নগর গ্রামের ফাহিম আহমদ (অভ্র ফাহিম)। তার পিতা মো. ফয়েজ উদ্দিন এবং মাতা মোছা. হেলেনা বেগম। বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিবিয়া থেকে ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী একটি নৌকায় করে গ্রীসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাদের বড় জাহাজে নেওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত একটি ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। নৌকাটিতে ৫ জন সুদানের নাগরিক এবং বাকি ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও পানির অভাবে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। এক পর্যায়ে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো প্রথমে দুই দিন নৌকায় রাখা হলেও পরে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, ভয়াবহ এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বেঁচে যাওয়া এক যুবক পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে গ্রীসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে। পরে গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানী এবং ১ জন চাঁদের নাগরিক রয়েছেন।
নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান, প্রতিজন প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে বিদেশে পাড়ি জমান। প্রথমে ঢাকা থেকে সৌদি আরব, সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয় তাদের। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েকদিন ধরে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি সন্ধ্যার পর তাদের নজরে এসেছে। এখনও পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তবে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জানা গেছে। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। নিহতদের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সুনামগঞ্জের দিরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের মাতম বইছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
কে